}

Thursday, July 16, 2026

হেলেন কেলারের অনুপ্রেরণার গল্প | হাল না ছাড়ার এক অবিশ্বাস্য যাত্রা

🌟 MOTIVATIONAL STORY

অন্ধকারের বন্দি থেকে আলোর যাত্রী হেলেন কেলার: যে পৃথিবীকে চোখে দেখেননি, তবুও পৃথিবীকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শিখিয়েছিলেন

❝ পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখেননি, কান দিয়ে কোনো শব্দ শোনেননি। তবুও তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষকে নতুন করে জীবন দেখতে শিখিয়েছিলেন। ❞

আচ্ছা, আপনাকে যদি একটা প্রশ্ন করি...

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন, আপনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না... কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না... এমনকি নিজের মনের কথাটুকুও কাউকে বলতে পারছেন না...

তাহলে কী করবেন? ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে, তাই না?

কিন্তু পৃথিবীতে এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি শুধু একদিন নয়—সারা জীবন এই অন্ধকার আর নীরবতার মধ্যেই বেঁচে ছিলেন।

তবুও তিনি হেরে যাননি। বরং এমন এক ইতিহাস গড়েছিলেন, যা আজও কোটি কোটি মানুষকে সাহস দেয়।

তার নাম— হেলেন কেলার।

১৮৮০ সালের ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে তাঁর জন্ম। জন্মের সময় তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ।

কিন্তু মাত্র ১৯ মাস বয়সে এক ভয়ংকর জ্বরে আক্রান্ত হলেন। জ্বর সেরে গেল... কিন্তু কেড়ে নিল তাঁর দুটি সবচেয়ে বড় সম্পদ—

👁️ দৃষ্টিশক্তি

👂 শ্রবণশক্তি

কথা বলার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল। এক মুহূর্তে পৃথিবীর সঙ্গে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

ছয় বছর বয়স পর্যন্ত হেলেনের পৃথিবী ছিল এক গভীর নীরবতা আর নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। চারপাশের মানুষ কথা বলছে... হাসছে... ডাকছে... কিন্তু সে কিছুই বুঝতে পারে না।

রাগে, অভিমানে কখনও মেঝেতে গড়াগড়ি দিত... কখনও জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলত... অনেকে বলতেন,

❝ এই মেয়েটির আর কিছুই হবে না। ❞

কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে— যখন সবাই আশা ছেড়ে দেয়, তখনই একজন মানুষ নতুন ইতিহাস লিখতে শুরু করে।


🌟 যে মানুষটি বদলে দিয়েছিলেন হেলেনের জীবন

সেই ইতিহাস লেখার জন্যই যেন একদিন তাঁর জীবনে এলেন একজন মানুষ।

অ্যানি সুলিভান।

মাত্র কুড়ি বছর বয়সী এই তরুণী শিক্ষিকা নিজেও ছোটবেলায় চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগেছিলেন। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর তিনি আংশিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তাই তিনি খুব ভালো করেই জানতেন—অন্ধকার কাকে বলে, অসহায়ত্ব কাকে বলে।

হেলেনের সঙ্গে প্রথম দেখা করেই তিনি বুঝেছিলেন, সমস্যাটা শুধু অন্ধত্ব বা বধিরতা নয়। বছরের পর বছর নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে না পেরে ছোট্ট মেয়েটির ভেতরে জমে আছে রাগ, অভিমান আর হতাশা।

প্রথম দিন তিনি হেলেনকে একটি ছোট্ট পুতুল উপহার দিলেন। তারপর হেলেনের হাতের তালুতে আঙুল দিয়ে লিখলেন—

D-O-L-L

হেলেন কিছুই বুঝতে পারল না। বরং বিরক্ত হয়ে পুতুলটি মাটিতে ছুড়ে ফেলল।

অন্য কেউ হলে হয়তো সেদিনই বলত— "একে শেখানো অসম্ভব।"

কিন্তু অ্যানি সুলিভান বিশ্বাস করতেন—

❝ একজন মানুষকে শেখানোর আগে তার ভেতরে শেখার দরজাটি খুলতে হয়। ❞

দিনের পর দিন তিনি একইভাবে হেলেনের হাতে শব্দ লিখে যেতেন। হেলেন শুধু আঙুলের স্পর্শ অনুভব করত, কিন্তু বুঝতে পারত না এই স্পর্শগুলোর কোনো অর্থ আছে।

অনেকেই প্রশ্ন করতেন, "এত পরিশ্রম করে লাভ কী?"

অ্যানি শুধু মৃদু হেসে উত্তর দিতেন,

❝ আজ না বুঝুক, একদিন সে বুঝবেই। আর সেই একটি দিনই বদলে দেবে তার পুরো জীবন। ❞

সত্যিই... সেই দিনটি এসেছিল। আর সেই দিনের একটি মাত্র শব্দ আজও ইতিহাসের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে আছে।


💧 যে একটি শব্দ বদলে দিয়েছিল পুরো জীবন

একদিন বিকেলে অ্যানি সুলিভান হেলেনকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পেছনের একটি জলের পাম্পের কাছে।

চারপাশে নিস্তব্ধ পরিবেশ। হেলেন তখনও বুঝতে পারে না—কেন তাকে এখানে আনা হয়েছে।

অ্যানি এক হাতে পাম্পের হাতল চালাতে শুরু করলেন। ঠান্ডা, স্বচ্ছ জলের ধারা এসে পড়ল হেলেনের ছোট্ট হাতের ওপর। ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য হাতের তালুতে তিনি ধীরে ধীরে লিখলেন—

W-A-T-E-R

আবার লিখলেন... W-A-T-E-R

হঠাৎ... হেলেন থেমে গেল। তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।

যে আঙুলের স্পর্শ এতদিন তার কাছে অর্থহীন ছিল... সেই স্পর্শের হঠাৎ যেন অর্থ খুঁজে পেল সে।

সে বুঝতে পারল— এই ঠান্ডা প্রবাহমান জিনিসটির একটি নাম আছে। জল

❝ সেই মুহূর্তেই যেন ছয় বছরের অন্ধকার ভেদ করে তার সামনে খুলে গেল জ্ঞানের প্রথম দরজা। ❞

তারপর যেন আর তাকে থামানো গেল না।

সে মাটি স্পর্শ করল। অ্যানি লিখলেন— E-A-R-T-H

সে গাছ ছুঁল... দরজা ছুঁল... নিজের মায়ের হাত ছুঁল... আর প্রতিবারই জানতে চাইল—

❝ এর নাম কী? ❞

সেই এক বিকেলেই হেলেন প্রায় ৩০টিরও বেশি নতুন শব্দ শিখে ফেলেছিলেন।

পরে হেলেন কেলার তাঁর আত্মজীবনী The Story of My Life-এ লিখেছিলেন—

❝ 'Water' শব্দটি শুধু একটি শব্দ ছিল না; সেটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম দরজা, যার ওপারে অপেক্ষা করছিল পুরো পৃথিবী। ❞

একটি শব্দ... একজন শিক্ষিকার ধৈর্য... আর একটি শিশুর শেখার ইচ্ছা— এই তিনটিই বদলে দিয়েছিল ইতিহাস।

অনেক সময় আমাদের জীবনও ঠিক এমনই হয়। হয়তো সাফল্য খুব কাছে থাকে... কিন্তু সেই একটি মুহূর্ত আসার আগেই আমরা হাল ছেড়ে দিই। হেলেন কেলার শিখিয়েছেন— যে মানুষটি চেষ্টা চালিয়ে যায়, একদিন না একদিন তার জীবনেও 'WATER' মুহূর্ত এসে যায়।


📚 অন্ধকারের মধ্যেও থামেনি শেখার পথ

জলের পাম্পের পাশে সেই বিকেলটি যেন হেলেন কেলারের দ্বিতীয় জন্মদিন ছিল। এতদিন যে পৃথিবী ছিল শুধু স্পর্শের... সেদিন থেকে সেই পৃথিবী হয়ে উঠল শব্দের, অর্থের আর জ্ঞানের।

এরপর আর তাঁকে থামিয়ে রাখা যায়নি। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই তিনি নতুন একটি শব্দ শিখতে চাইতেন। আজ একটি... কাল দশটি... তারপর শত শত... শব্দ যেন তাঁর কাছে নতুন নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে দিচ্ছিল।

অ্যানি সুলিভানও বুঝেছিলেন— এই শিশুটির সমস্যা বুদ্ধির নয়... সমস্যা শুধু পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের। আর সেই যোগাযোগের পথ একবার খুলে গেলে তাকে আর কেউ থামাতে পারবে না।

❝ একজন ভালো শিক্ষক শুধু পড়ান না; তিনি একজন মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলেন। ❞

শুরু হলো আরও কঠিন অধ্যায়। হেলেন শিখলেন Braille (ব্রেইল)—দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ লিপি, যেখানে উঁচু-নিচু ছয়টি বিন্দুর স্পর্শে অক্ষর তৈরি হয়। চোখ দিয়ে নয়... আঙুল দিয়েই পড়তে হয় এই ভাষা।

📖 জানেন কি?

ব্রেইল লিপির উদ্ভাবক ছিলেন Louis Braille (লুই ব্রেইল)। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি এই লিপি তৈরি করেন, যা আজ বিশ্বের কোটি কোটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষার প্রধান মাধ্যম।

প্রথমদিকে পড়াশোনা মোটেও সহজ ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আঙুল বুলিয়ে পড়তে পড়তে তাঁর আঙুল ব্যথা হয়ে যেত। একই শব্দ বারবার ভুল হতো। অনেক সময় ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়ত।

একদিন অ্যানি সুলিভান তাঁর হাত ধরে লিখলেন—

❝ আজ থাক... কাল আবার শুরু করব। ❞

হেলেন মৃদু হেসে উত্তর দিলেন—

❝ না... আমি থামতে চাই না। আমি যত শিখব, আমার পৃথিবী তত বড় হবে। ❞

এই কথাটিই যেন তাঁর পুরো জীবনের পরিচয়। তিনি কখনো নিজের ভাগ্যকে দোষ দেননি। বরং প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে একটু ভালো করার চেষ্টা করেছেন।

ধীরে ধীরে তিনি শুধু ব্রেইলই নয়, বিশেষ পদ্ধতিতে কথা বলা এবং অন্যের ঠোঁটের কম্পন স্পর্শ করে শব্দ বোঝার (Tadoma Method) অনুশীলনও শুরু করেন। যা সাধারণ মানুষের কাছেও অত্যন্ত কঠিন।

এরপর তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের কথা জানালেন। তিনি কলেজে পড়তে চান। চারপাশের মানুষ অবাক হয়ে গেল।

কেউ বলল, "যে মেয়ে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে?"

হেলেন কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি শুধু আরও মন দিয়ে পড়তে শুরু করলেন। কারণ তিনি জানতেন—

❝ মানুষের উত্তর কথায় নয়... কাজে দেওয়াই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর। ❞

🎓 অসম্ভবকে সম্ভব করার দিন

বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে সেই দিন এল। হেলেন কেলার ঠিক করলেন, তিনি শুধু পড়াশোনা করবেন না... বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিও অর্জন করবেন।

তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুনে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কারও কারও মুখে একটাই প্রশ্ন—

❝ যে মেয়ে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করবে কীভাবে? ❞

কিন্তু হেলেন অন্যদের সন্দেহকে নিজের দুর্বলতা হতে দেননি। বরং সেটাকেই শক্তিতে পরিণত করলেন।

পড়াশোনা যত কঠিন হচ্ছিল, তাঁর পরিশ্রমও তত বাড়ছিল। ক্লাসে শিক্ষক যা বলতেন, অ্যানি সুলিভান সঙ্গে সঙ্গে হেলেনের হাতের তালুতে আঙুল দিয়ে সেই কথাগুলো বানান করে বুঝিয়ে দিতেন। একটি লেকচার শেষ হতে যত সময় লাগত, হেলেনের কাছে তা পৌঁছাতে লাগত তারও বেশি সময়। তবুও তিনি কখনো অভিযোগ করেননি।

📖 জানেন কি?

হেলেন কেলার পড়াশোনার সময় ব্রেইল বইয়ের পাশাপাশি বিশেষ উঁচু অক্ষরের বই এবং হাতে বানান (Manual Alphabet) পদ্ধতির সাহায্য নিতেন। তাঁর শিক্ষিকা অ্যানি সুলিভান প্রতিটি ক্লাস, প্রতিটি পরীক্ষা এবং প্রতিটি বই পড়ার সময় তাঁর পাশে থাকতেন।

অবশেষে এল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯০৪ সালে হেলেন কেলার Radcliffe College থেকে Bachelor of Arts (B.A.) ডিগ্রি অর্জন করলেন।

❝ এটি শুধু একটি ডিগ্রি ছিল না... এটি ছিল মানুষের ইচ্ছাশক্তির বিজয়। ❞

তিনি বিশ্বের প্রথম দৃষ্টিহীন ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

যে ছোট্ট মেয়েটিকে একদিন অনেকেই ভবিষ্যৎহীন বলেছিলেন... সেই মেয়েটিই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে ফেললেন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো— হেলেন কেলার এখানেই থেমে যাননি। তিনি বলেছিলেন,

❝ আমার সাফল্যের মূল্য তখনই, যখন তা অন্য মানুষের জীবনেও আশা জাগাবে। ❞

এরপর তিনি কলম হাতে তুলে নিলেন। নিজের জীবনের গল্প লিখলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ালেন। আর লক্ষ লক্ষ মানুষকে শেখালেন— প্রতিবন্ধকতা শরীরে থাকতে পারে, কিন্তু স্বপ্নে নয়।


🌍 একজন মানুষ নন, কোটি মানুষের আশার আলো

কলেজের ডিগ্রি অর্জনের পর হেলেন কেলার নিজের সাফল্য নিয়েই থেমে থাকেননি। তিনি বুঝেছিলেন, তাঁর জীবনের লড়াই শুধু তাঁর নিজের জন্য নয়। এই পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন দেখতেই ভয় পান। তাদের জন্যই কিছু করা দরকার।

এরপর শুরু হলো তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি লেখালেখি শুরু করলেন। দেশে-বিদেশে বক্তৃতা দিতে লাগলেন। অন্ধ, বধির এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে আজীবন কাজ করে গেলেন।

🌍 জানেন কি?

হেলেন কেলার জীবদ্দশায় ৩৫টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁর বক্তৃতা লক্ষ লক্ষ মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও আশার নতুন আলো দেখিয়েছিল।

১৯৫৫ সালে তিনি ভারত সফরেও আসেন। ভারতের বিভিন্ন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন।

হেলেন কেলার শুধু একজন লেখক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সমাজকর্মী, বক্তা এবং মানবাধিকারকর্মী। তাঁর জীবনের প্রতিটি দিন যেন অন্য মানুষের জীবনে আলো জ্বালানোর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।

তাঁর আত্মজীবনী The Story of My Life প্রকাশের পর সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আজও বইটি বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক আত্মজীবনী হিসেবে বিবেচিত হয়।

❝ অন্ধ হওয়া সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য নয়। সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো—চোখ থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বপ্ন না থাকা। ❞

১৯৬৮ সালের ১ জুন, ৮৭ বছর বয়সে হেলেন কেলার পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কিছু মানুষ কখনও হারিয়ে যান না। তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের কাজের মাধ্যমে... তাঁদের আদর্শের মাধ্যমে... আর কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে।


💙 শেষ কথা

হেলেন কেলারের জীবন আমাদের একটি কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়— জীবনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা শরীরে নয়, মনের মধ্যে।

যে ছোট্ট মেয়েটি একসময় কিছুই দেখতে পেত না... কিছুই শুনতে পেত না... কথাও বলতে পারত না... সেই মেয়েটিই একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করলেন, বই লিখলেন, বিশ্বভ্রমণ করলেন এবং কোটি কোটি মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়ে গেলেন।

❝ জীবন হয় এক সাহসী অভিযান, নয়তো কিছুই নয়। ❞ — Helen Keller

হয়তো আজ আপনার জীবনেও কোনো অন্ধকার আছে। হয়তো আপনি এমন একটি লড়াই লড়ছেন, যার কথা কেউ জানে না। তবুও থেমে যাবেন না। কারণ... অন্ধকার কখনো আলোর শেষ নয়। অনেক সময় অন্ধকারই মানুষকে আলো খুঁজে নিতে শেখায়।

হেলেন কেলার চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখেননি... তবুও তিনি পৃথিবীকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শিখিয়েছেন। হয়তো পরের অনুপ্রেরণার গল্পটি... আপনারই হবে।


📚 গল্পের বাইরে আরও কিছু তথ্য

👩 পূর্ণ নাম: Helen Adams Keller (হেলেন অ্যাডামস কেলার)

🎂 জন্ম: ২৭ জুন, ১৮৮০, টাসকাম্বিয়া, আলাবামা, যুক্তরাষ্ট্র

🌼 মৃত্যু: ১ জুন, ১৯৬৮ (বয়স ৮৭ বছর)

👩‍🏫 শিক্ষিকা: Anne Sullivan (অ্যানি সুলিভান)

🩺 ১৯ মাস বয়সে আক্রান্ত হন: তীব্র জ্বরের (সম্ভবত Scarlet Fever বা Meningitis) ফলে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হারান।

💧 জীবনের মোড় ঘোরানো শব্দ: WATER (৫ এপ্রিল, ১৮৮৭)

📖 ব্রেইল (Braille): দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ছয়টি উঁচু বিন্দির স্পর্শভিত্তিক লিপি। এর উদ্ভাবক Louis Braille

🎓 ঐতিহাসিক অর্জন: বিশ্বের প্রথম দৃষ্টিহীন ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Bachelor of Arts (B.A.) ডিগ্রি অর্জন।

🌍 বিশ্বভ্রমণ: ৩৫টিরও বেশি দেশ সফর করে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেন।

🇮🇳 ভারত সফর: ১৯৫৫ সালে ভারত সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


📚 হেলেন কেলারের উল্লেখযোগ্য বই

📘 The Story of My Life
বাংলা অর্থ: আমার জীবনের গল্প (আত্মজীবনী)

📗 The World I Live In
বাংলা অর্থ: আমি যে পৃথিবীতে বাস করি

📙 Out of the Dark
বাংলা অর্থ: অন্ধকার থেকে আলোর পথে

📕 My Religion (পরবর্তীতে Light in My Darkness)
বাংলা অর্থ: আমার ধর্ম / আমার অন্ধকারে আলো

📔 Teacher: Anne Sullivan Macy
বাংলা অর্থ: আমার শিক্ষিকা অ্যানি সুলিভান

📓 Midstream: My Later Life
বাংলা অর্থ: আমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়


🌟 হেলেন কেলারের কিছু বিখ্যাত উক্তি

Life is either a daring adventure or nothing.
জীবন হয় এক সাহসী অভিযান, নয়তো কিছুই নয়। ❞

Alone we can do so little; together we can do so much.
একা আমরা খুব কম করতে পারি, কিন্তু একসঙ্গে অনেক কিছু করতে পারি। ❞

The only thing worse than being blind is having sight but no vision.
অন্ধ হওয়ার চেয়েও বড় দুর্ভাগ্য হলো—চোখ থাকা, কিন্তু কোনো লক্ষ্য না থাকা। ❞

💙 লেখাটি ভালো লাগলে...

হেলেন কেলার আমাদের শিখিয়েছেন—জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি চোখে দেখা বা কানে শোনা নয়; সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হাল না ছাড়ার মানসিকতা।

যদি এই গল্পটি আপনাকে একটুও অনুপ্রাণিত করে থাকে, তাহলে এটি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। হয়তো আপনার একটি শেয়ারই কারও জীবনের অন্ধকারে নতুন আলোর প্রদীপ জ্বালাতে পারে।

No comments:

Post a Comment

body { -webkit-user-select: none; /* Chrome, Safari, Edge */ -moz-user-select: none; /* Firefox */ -ms-user-select: none; /* Internet Explorer */ user-select: none; /* Standard */ }